দেশের ফার্নিচার বা আসবাবপত্র শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিশ্ববাজারের তুলনায় রফতানির চিত্র হতাশাজনক। ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বৈশ্বিক বাজারের বিপরীতে বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করছে। তাই এ শিল্পের বিকাশ ও রফতানি বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ভাবন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রাজধানীর পূর্বাচলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) রাজদর্শন হলে গতকাল ২০তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
‘আমার দেশ, আমার আশা—দেশীয় ফার্নিচারে সাজাব বাসা’—এ প্রতিপাদ্যে আইসিসিবির গুলনকশা, পুষ্পগুচ্ছ ও রাজদর্শন হলে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থান পাওয়া ২৭৮টি স্টলে আসবাবপত্র প্রস্তুতকারী ৪৮টি প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ নকশা ও নতুন পণ্য প্রদর্শন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ফার্নিচার শিল্পের জন্য যে ফাংশনাল (কার্যকরী) অ্যাট্রিবিউট ও এসথেটিক (নান্দনিক) অ্যাট্রিবিউট দরকার, সেটা হচ্ছে না। নীতিগতভাবে সরকার যত আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার; তা করছে।
তিনি ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এ শিল্পের বিকাশ ও রফতানি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন হচ্ছে না। নীতিগতভাবে সরকার যত আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তা করছে। ব্যবসায়ীদের দরকার উদ্ভাবন বাড়ানো।’
ফার্নিচার শিল্পের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন নতুন বাজার খুঁজতে কাজ করছে—জানিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এ শিল্পে নান্দনিকতা ও রুচির বহিঃপ্রকাশ আছে, এ নিয়ে কাজ করতে হবে। ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজার রয়েছে, আমাদের রফতানি ১০ মিলিয়ন ডলারের কম, এটাকে ১০০ মিলিয়নে নিতে চাই।’
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘ফার্নিচারের দাম নয়, উদ্ভাবনের অভাবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।’
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি তৈরি হবে ও অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
রফতানি আয় বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘শ্রমঘন শিল্প হিসেবে গার্মেন্টসের পরই রয়েছে ফার্নিচার শিল্প। তবে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে। উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, ডিজাইন ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে রফতানি বাজার দখল করতে হবে। সামনে যেসব খাতে সুবিধা দেয়া হবে, তাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে ফার্নিচার শিল্পে।’ এসব পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ফার্নিচার পণ্য সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. কেএম আখতারুজ্জামান বলেন, ‘রফতানি প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনাম ও চীনের চেয়ে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। ওরা ভর্তুকি পেত, এখন আমরাও পাচ্ছি। আশা করছি আমাদের রফতানিও বাড়বে।’